অনলাইন ডেস্কঃ সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় শনিবার রাতে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আগের চেয়ে আরও বেশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মাইকিং করে এলাকাবাসীকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
মূল প্রবেশপথ ছাড়াও এলাকাভিত্তিক রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানায় এখনও অভিযান চলছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে দূরে থাকতে বলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন ওই এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রেনেডের স্প্লিন্টার সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রোববার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে আতিয়া মহলের আশপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ওই এলাকার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। এ ছাড়া একসঙ্গে তিনজনের বেশি লোকজন চলাচল করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
হুমায়ূন রশীদ চত্বর ও লালমাটিয়া এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের বন্ধ করে দেওয়া অংশে কয়েকটি শাখা সড়ক আছে। এই শাখা সড়কগুলোর মুখও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দুটি স্থানে পৃথক বোমা হামলা হয়। এই ঘটনার পর থেকে সড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।
পুলিশি বিধিনিষেধের আওতায় বাইরে অবস্থান করা প্রতিবেদক জানান, শিববাড়ি এলাকার লোকজনকে ঘরের ভেতর বা নিরাপদ জায়গায় থাকতে মাইকিং করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কি হচ্ছে তা জানতে অনেকে কৌতূহলবশত ঘরের বাইরে বের হয়ে যেতে পারে, তাই এ মাইকিং করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া শনিবার রাতের দুই দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, এ ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিস্ফোরণে কারা জড়িত থাকতে পারে সে সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, শিববাড়ির আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানাকে ঘিরে অভিযান শুরুর পর থেকে ওই এলাকায় উৎসাহী মানুষজন ভিড় করলেও শনিবার রাতের বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন লোক নিহত হওয়ার পর রোববার থেকে অতি-উৎসাহী মানুষের সংখ্যা কমে এসেছে। সুত্রঃ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর
