একুশে আগস্ট ২৬টি স্প্লিন্টার বিঁধেছিল সুরঞ্জিতের গায়ে

একুশে আগস্ট ২৬টি স্প্লিন্টার বিঁধেছিল সুরঞ্জিতের গায়ে
নিউজ ডেস্কঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন সদ্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। ওই হামলায় নিজেও আহত হন, তাঁর শরীরের বিঁধেছিল ২৬টি স্প্লিন্টার।

সেদিন অন্য অনেক আহতের মতো সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। রক্তে ভেসে গিয়েছিল তাঁর সারা গা।

২০১৫ সালের ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর নারকীয় ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাক্ষ্য দেন। ওই মামলায় ৪৯১ জন সাক্ষী রয়েছেন।

ওই দিন আদালতে সুরঞ্জিত বলেছিলেন, 'বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ জনসভায় বেসামরিক নিরস্ত্র জনতার ওপর সমরাস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। এটি ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা।'

দেশ ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে ও সুচিন্তিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছিল- এমন দাবি করে সুরঞ্জিত বলেছিলেন, 'হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে চিরতরে নেতৃত্বহীন করা, যা ১৫ আগস্টের রিপিটেশন (পুনরাবৃত্তি)।'

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরও বলেছিলেন, '২১ আগস্টের ঘটনা ছিল অত্যন্ত বীভৎস। অসহায় মানুষের চিৎকার। কারও শরীর থেকে পা চলে গেছে, হাত চলে গেছে, দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমি আর কোনোদিন দেখিনি। এমন বর্বরোচিত আক্রমণ করতে পারে এটা আমি কল্পনাই করতে পারি না।'

তিনি বলেছিলেন, 'ওই ঘটনার সময় আমি মঞ্চে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পাশেই বসা ছিলাম। গ্রেনেড হামলায় আমি নিজেও আহত হয়েছিলাম। আমার গায়ে ২৬টি স্প্লিন্টার ছিল। আমার সারা শরীর ছিল রক্তাক্ত। আমাকে ধরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার অবস্থা ছিল আরও বীভৎস।'

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালায়। ভয়াবহ ওই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। আহত হন দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী। ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য নেন ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলাটি তদন্তের ভার পান সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহহার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নামযুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি কারাগারে আটক আছেন।

মামলার ৫২ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুল হুদা, পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল হক, খোদা বক্স চৌধুরী ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুর রহমানসহ ৮ জন জামিনে আছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে এ মামলার আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post