এএফএম ফৌজি চৌধুরী: আমাদের সকল কাজের ফুয়েল হলো আত্মতৃপ্তি। আত্মতৃপ্তি না পেলে আমরা কাজে উৎসাহ পাইনা, কাজ থেকে ছিটকে পড়ি। কারণ কাজে কোনো আত্মবিশ্বাস কাজ করে না। তাই যে কোন কাজে সফলতার শীর্ষচূড়ায় আরোহণ করার সবচেয়ে বড় শক্তি আত্মবিশ্বাস।
আত্মবিশ্বাস না থাকলে ধৈর্যের পরীক্ষায় এ পাস পাওয়া সম্ভব নয়। ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্বাস হৃদয়ে তবে হবে হবেই জয়, হবে নিশ্চয়’। এ গান কিন্তু আত্মবিশ্বাসেরই কথা বলে। আত্মতৃপ্তি বৃদ্ধির সমহারে বাড়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস। আর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে পৌছলেই জীবনে সফলতার শৃঙ্গে উঠা যায়। কিন্তু আত্মবিশ্বাস যখন পথ হারিয়ে পকেটে ঢুকে পড়ে তখনই আমরা অহংকারী হয়ে উঠি, ধরাকে সরা জ্ঞান করি, কাউকে পাত্তা দেই না। তাই আত্মঅহংকার আমাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
আত্মতৃপ্তি আত্মবিশ্বাস ও আত্মঅহংকারের মাঝখানের দেয়াল এতই সূক্ষ্ম যা চর্মচোখে দেখা যায় না, দরকার দিব্যজ্ঞান ও দূরদৃষ্টির। ওদের মধ্যে পার্থক্যটা এতই ক্ষীণ যে অনেক ক্ষেত্রে আমরা টেরও পাইনা কখন আত্মবিশ্বাস দেয়াল টপকে আত্মঅহংকারের সীমানায় ঢুকে পড়ে। আমাদের জীবন চলার পথ আবর্তিত হচ্ছে-এ তিন তারকাকে ঘিরেই। আত্মঅহংকারী হওয়া মানে জীবনের সীমা লংঘন করা, জীবন চলার পথ থেকে সটকে পড়া, জীবনকে জীবন্ত কবর দেওয়া। সুতরাং সাবধান! সামনে মৃত্যুকূপ। এভাবে হিসেব করেই পা ফেলতে হবে। কারণ জীবনের মিলন মেলায় আমাদের এ তিন পাগলের সাথে দেখা হবেই। আমরা যে যে কাজই করিনা কেন আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি অনুভব করি। তা না হলে আমাদের দ্বারা কাজটি করা সম্ভব হতো না। আমরা ভালো কাজ করে যেমন আত্মতৃপ্তি পাই, খারাপ কাজ করেও আত্মতৃপ্তি পাই। আর তা না হলে কি আমাদের পক্ষে কোন খারাপ কাজ করা সম্ভব হতো? কারণ আত্মতৃপ্তির পেছনে কাজ করে জয়ের নেশা। অর্থাৎ আমরা যে কাজই করিনা কেন জয় পেলেই আত্মতৃপ্তি পাই, সেটা মন্দ কাজ হলেও। বরং তখন আমরা মন্দ কাজকেও ভালো বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। তবে অবশ্যই ভালো ও মন্দ কাজের আত্মতৃপ্তির মধ্যে তারতম্য রয়েছে। বিজয়ের মালা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সেটা ভুলে যেতে বাধ্য করে। বিস্বাদময় এই পৃথিবীতে সবাই আমরা নানান রকমের স্বাদ খুঁজি। কেউ টক, কেউ ঝাল, কেউবা আবার মিষ্টি। আসলে সফলতা বা উন্নয়নের জন্য আমরা এতটাই উন্মুখ যে, যে কোনো মুল্যে আমরা তা চাই। তবে এটা যে উচিত নয়, সেটাও আমরা বুঝি, কিন্তু মনকে বুঝাতে পারি না। কারণ জীবনকে আমরা সব সময় রঙিন চশমা পরে দেখি। তাই আসল জীবনকে দেখতে পাইনা। উন্নয়ন বা সফলতা অবশ্যই আমাদের চাই, কিন্তু মন্দভাবে কেন? ভালো পথে পেতে একটু বেশি পরিশ্রম ও অপেক্ষা করতে হয় মাত্র।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘প্রিয় কুলাউড়া’ তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে বিশেষ সংখ্যা ‘ক্রোড়পত্র’ প্রকাশিত করছে। প্রিয় কুলাউড়ার সম্পাদক এ কে এম জাবের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে গত দুই বৎসর যাবৎ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সম্পাদকের কাজের প্রতি, পাঠকের প্রতি, শুভাকাক্সিক্ষদের প্রতি সর্বোপরি তার এ সমস্ত কাজে আত্মবিশ্বাস আছে বলেই এই ক্রোড়পত্র তারই আত্মতৃপ্তি। তার এ অগ্রাযাত্রা প্রশংসার দাবিদার।
আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ কোনো কাজই এত সহজ নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফলতার জন্য দরকার কম করে হলেও দুই যুগ এবং জাতীয় পর্যায়ের জন্য এক যুগ । এই দীর্ঘ সময়ে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়। যার জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস । তা না হলে কিছুতেই এত দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকা সম্ভব নয়। আলেকজেন্ডার ফ্লেমিংয়ের প্রথম এন্টিবায়োটিক আবিস্কার কিংবা ড. ইউনূসের নোবেল বিজয়ই এর প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জয় পেলে স্বাভাবিকভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থতাও আত্মবিশ্বাসকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাইতো প্রবাদ আছে 'Failure is the pillar of success' ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মূলত সফলতার পিলার তুলতেই হয়। এ প্রসংগে বিশ্ববিখ্যাত নেটওয়ার্কার এলান পিচ বলেন, ‘যতবেশি খেলবে ততবেশি জিতবে আর যতবেশি জিতবে ততবেশি উৎসাহ নিয়ে খেলবে।’
আসলে কাজে অগ্রগতি না দেখলে আমরা কাজ করতে আগ্রহবোধ করিনা। আর কাজের অগ্রগতির জন্য বেশি বেশি চেষ্টা করতে হয়। আত্মবিশ্বাসেরও জোয়ার-ভাটা রয়েছে। তাই সব সময় আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে এমনটা কিন্তু নয়। আমরা যতবেশি ভালো কাজ করবো আত্মবিশ্বাসের জোয়ারে আমাদের মন ততবেশি পাবিত হবে। কাজে বাধা আসে বলেই আমরা ব্যর্থ হই। আর এই বাধাকে জয় করার সবচেয়ে মহীরুহ শক্তি হলো আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায় আমাদের কথা, কাজে ও চিন্তায়। বাধা অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে চললেই আমাদের আত্মবিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া কাজের পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে কোনো কাজে আত্মবিশ্বাস রাখা যায় না। আত্মবিশ্বাস না থাকলে জীবনে বড় কিছু করা সম্ভব নয়। তবে অনেক সময় অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসের কারণে আমাদের সর্বত্রই ঠকতে হয় এবং ব্যর্থ হতে হয় যদি সে অনুযায়ী কাজের প্রস্তুতি না থাকে। আত্মবিশ্বাসকে যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি তাহলে কোনো কাজেই আসবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসের কারণে আমরা অসতর্ক হয়ে পড়ি। পরিণামে পরিণতি খারাপ হয়।
আত্মবিশ্বাস যখন পাখা গজিয়ে উড়তে থাকে তখন আমরা অহংকারী হয়ে উঠি। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করি। তাই অহংকার পতনের মূল। কেউ নিজেকে অহংকারী ভাবে না কিংবা অহংকার করে বলে মনে করে না। কিন্তু কথা কাজ ও চিন্তার মধ্যদিয়েই আমাদের অহংকার ফোটে ওঠে। কাউকে অসম্মান করে কথা বলা, মর্যাদা না দেওয়া, বড় ছোট না মানা, নিজেরটাকেই ভালো মনে করা, অন্যের মতামতের তোয়াক্কা না করা, যা ইচ্ছা তাই বলা-এসবই অহংকারের সুষ্পষ্ট আলামত। অধীনদের প্রতি অবিচার করা, অশালীন পোশাক পরিচ্ছদ পরা ও চলাফেরার মধ্যদিয়েও অহংকার প্রকাশ পায়। তাই অহংকারী লোককে কেউই পছন্দ করে না, এমনকি অতি আপনজনরাও। এনিয়ে প্রবাদও আছে ‘অহংকার পতনের মূল’। কারো কাছে যার স্থান নেই তার চেয়ে অসহায় পৃথিবীতে কে আর হতে পারে? আসলে সবকিছুকে সমন্বয় করে চলার নামই জীবন।
আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি ছাড়া জীবন সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আত্মতৃপ্তিতে আত্মহারা হলে ডুবে মরার সম্ভাবনাই বেশি। তাই কিছু পেলে খুশিতে যেমন আত্মহারা হওয়া উচিত নয় এবং না পেলেও হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া সমুচিত নয়। মধ্যম পন্থাই সর্বোৎকৃষ্ট। আত্মবিশ্বাসের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। আত্মবিশ্বাস ছাড়া জীবনে পথ চলা মোটেও সম্ভব নয়। আবার বেশি আত্মবিশ্বাস আমাদের ভালো মন্দকে এক করে ভাবতে বাধ্য করে। তখন প্রকৃত সমস্যাকেও আমাদের কাছে সমস্যা মনে হয় না। মোট কথা হলো-অতিআত্মবিশ্বাস আমাদের অন্ধবিশ্বাসী করে তোলে। কাজ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতা না থাকলে আত্মবিশ্বাস কোনো কাজে আসে না। আর অন্ধবিশ্বাস আমাদের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই অতি আত্মবিশ্বাসীরা নির্বিচারে সবাইকে বিশ্বাস করে ঘাটে ঘাটে মার খায়। আসলে সফলতার কোন সার্বজনীন সংজ্ঞা নেই। সফল হলেই আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি থাকবে এমনটাও কিন্তু সঠিক নয়। তা-না হলে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও ব্যক্তিরাও কেন আত্মহত্যা করবে? অভাবী মানুষের চেয়ে ধনী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই কিন্তু আত্মহত্যার পথ বেশি বেছে নেয়। আত্মতৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আত্মঅহংকার থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে আত্মসমালোচনায় নিমগ্ন থাকা। নিজের সাথে নিজের প্রতিযোগিতা করা। নিজের দায়বদ্ধতাকে বড় করে দেখা। অন্যের পতি সহনশীল হওয়া। নিজের মতো অন্যকে ভালোবাসা।
আত্মবিশ্বাস না থাকলে ধৈর্যের পরীক্ষায় এ পাস পাওয়া সম্ভব নয়। ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্বাস হৃদয়ে তবে হবে হবেই জয়, হবে নিশ্চয়’। এ গান কিন্তু আত্মবিশ্বাসেরই কথা বলে। আত্মতৃপ্তি বৃদ্ধির সমহারে বাড়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস। আর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে পৌছলেই জীবনে সফলতার শৃঙ্গে উঠা যায়। কিন্তু আত্মবিশ্বাস যখন পথ হারিয়ে পকেটে ঢুকে পড়ে তখনই আমরা অহংকারী হয়ে উঠি, ধরাকে সরা জ্ঞান করি, কাউকে পাত্তা দেই না। তাই আত্মঅহংকার আমাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
আত্মতৃপ্তি আত্মবিশ্বাস ও আত্মঅহংকারের মাঝখানের দেয়াল এতই সূক্ষ্ম যা চর্মচোখে দেখা যায় না, দরকার দিব্যজ্ঞান ও দূরদৃষ্টির। ওদের মধ্যে পার্থক্যটা এতই ক্ষীণ যে অনেক ক্ষেত্রে আমরা টেরও পাইনা কখন আত্মবিশ্বাস দেয়াল টপকে আত্মঅহংকারের সীমানায় ঢুকে পড়ে। আমাদের জীবন চলার পথ আবর্তিত হচ্ছে-এ তিন তারকাকে ঘিরেই। আত্মঅহংকারী হওয়া মানে জীবনের সীমা লংঘন করা, জীবন চলার পথ থেকে সটকে পড়া, জীবনকে জীবন্ত কবর দেওয়া। সুতরাং সাবধান! সামনে মৃত্যুকূপ। এভাবে হিসেব করেই পা ফেলতে হবে। কারণ জীবনের মিলন মেলায় আমাদের এ তিন পাগলের সাথে দেখা হবেই। আমরা যে যে কাজই করিনা কেন আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি অনুভব করি। তা না হলে আমাদের দ্বারা কাজটি করা সম্ভব হতো না। আমরা ভালো কাজ করে যেমন আত্মতৃপ্তি পাই, খারাপ কাজ করেও আত্মতৃপ্তি পাই। আর তা না হলে কি আমাদের পক্ষে কোন খারাপ কাজ করা সম্ভব হতো? কারণ আত্মতৃপ্তির পেছনে কাজ করে জয়ের নেশা। অর্থাৎ আমরা যে কাজই করিনা কেন জয় পেলেই আত্মতৃপ্তি পাই, সেটা মন্দ কাজ হলেও। বরং তখন আমরা মন্দ কাজকেও ভালো বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। তবে অবশ্যই ভালো ও মন্দ কাজের আত্মতৃপ্তির মধ্যে তারতম্য রয়েছে। বিজয়ের মালা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সেটা ভুলে যেতে বাধ্য করে। বিস্বাদময় এই পৃথিবীতে সবাই আমরা নানান রকমের স্বাদ খুঁজি। কেউ টক, কেউ ঝাল, কেউবা আবার মিষ্টি। আসলে সফলতা বা উন্নয়নের জন্য আমরা এতটাই উন্মুখ যে, যে কোনো মুল্যে আমরা তা চাই। তবে এটা যে উচিত নয়, সেটাও আমরা বুঝি, কিন্তু মনকে বুঝাতে পারি না। কারণ জীবনকে আমরা সব সময় রঙিন চশমা পরে দেখি। তাই আসল জীবনকে দেখতে পাইনা। উন্নয়ন বা সফলতা অবশ্যই আমাদের চাই, কিন্তু মন্দভাবে কেন? ভালো পথে পেতে একটু বেশি পরিশ্রম ও অপেক্ষা করতে হয় মাত্র।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘প্রিয় কুলাউড়া’ তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে বিশেষ সংখ্যা ‘ক্রোড়পত্র’ প্রকাশিত করছে। প্রিয় কুলাউড়ার সম্পাদক এ কে এম জাবের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে গত দুই বৎসর যাবৎ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সম্পাদকের কাজের প্রতি, পাঠকের প্রতি, শুভাকাক্সিক্ষদের প্রতি সর্বোপরি তার এ সমস্ত কাজে আত্মবিশ্বাস আছে বলেই এই ক্রোড়পত্র তারই আত্মতৃপ্তি। তার এ অগ্রাযাত্রা প্রশংসার দাবিদার।
আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ কোনো কাজই এত সহজ নয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফলতার জন্য দরকার কম করে হলেও দুই যুগ এবং জাতীয় পর্যায়ের জন্য এক যুগ । এই দীর্ঘ সময়ে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হয়। যার জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস । তা না হলে কিছুতেই এত দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকা সম্ভব নয়। আলেকজেন্ডার ফ্লেমিংয়ের প্রথম এন্টিবায়োটিক আবিস্কার কিংবা ড. ইউনূসের নোবেল বিজয়ই এর প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জয় পেলে স্বাভাবিকভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থতাও আত্মবিশ্বাসকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাইতো প্রবাদ আছে 'Failure is the pillar of success' ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মূলত সফলতার পিলার তুলতেই হয়। এ প্রসংগে বিশ্ববিখ্যাত নেটওয়ার্কার এলান পিচ বলেন, ‘যতবেশি খেলবে ততবেশি জিতবে আর যতবেশি জিতবে ততবেশি উৎসাহ নিয়ে খেলবে।’
আসলে কাজে অগ্রগতি না দেখলে আমরা কাজ করতে আগ্রহবোধ করিনা। আর কাজের অগ্রগতির জন্য বেশি বেশি চেষ্টা করতে হয়। আত্মবিশ্বাসেরও জোয়ার-ভাটা রয়েছে। তাই সব সময় আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে এমনটা কিন্তু নয়। আমরা যতবেশি ভালো কাজ করবো আত্মবিশ্বাসের জোয়ারে আমাদের মন ততবেশি পাবিত হবে। কাজে বাধা আসে বলেই আমরা ব্যর্থ হই। আর এই বাধাকে জয় করার সবচেয়ে মহীরুহ শক্তি হলো আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায় আমাদের কথা, কাজে ও চিন্তায়। বাধা অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে চললেই আমাদের আত্মবিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া কাজের পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে কোনো কাজে আত্মবিশ্বাস রাখা যায় না। আত্মবিশ্বাস না থাকলে জীবনে বড় কিছু করা সম্ভব নয়। তবে অনেক সময় অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসের কারণে আমাদের সর্বত্রই ঠকতে হয় এবং ব্যর্থ হতে হয় যদি সে অনুযায়ী কাজের প্রস্তুতি না থাকে। আত্মবিশ্বাসকে যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি তাহলে কোনো কাজেই আসবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসের কারণে আমরা অসতর্ক হয়ে পড়ি। পরিণামে পরিণতি খারাপ হয়।
আত্মবিশ্বাস যখন পাখা গজিয়ে উড়তে থাকে তখন আমরা অহংকারী হয়ে উঠি। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করি। তাই অহংকার পতনের মূল। কেউ নিজেকে অহংকারী ভাবে না কিংবা অহংকার করে বলে মনে করে না। কিন্তু কথা কাজ ও চিন্তার মধ্যদিয়েই আমাদের অহংকার ফোটে ওঠে। কাউকে অসম্মান করে কথা বলা, মর্যাদা না দেওয়া, বড় ছোট না মানা, নিজেরটাকেই ভালো মনে করা, অন্যের মতামতের তোয়াক্কা না করা, যা ইচ্ছা তাই বলা-এসবই অহংকারের সুষ্পষ্ট আলামত। অধীনদের প্রতি অবিচার করা, অশালীন পোশাক পরিচ্ছদ পরা ও চলাফেরার মধ্যদিয়েও অহংকার প্রকাশ পায়। তাই অহংকারী লোককে কেউই পছন্দ করে না, এমনকি অতি আপনজনরাও। এনিয়ে প্রবাদও আছে ‘অহংকার পতনের মূল’। কারো কাছে যার স্থান নেই তার চেয়ে অসহায় পৃথিবীতে কে আর হতে পারে? আসলে সবকিছুকে সমন্বয় করে চলার নামই জীবন।
আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি ছাড়া জীবন সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আত্মতৃপ্তিতে আত্মহারা হলে ডুবে মরার সম্ভাবনাই বেশি। তাই কিছু পেলে খুশিতে যেমন আত্মহারা হওয়া উচিত নয় এবং না পেলেও হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া সমুচিত নয়। মধ্যম পন্থাই সর্বোৎকৃষ্ট। আত্মবিশ্বাসের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। আত্মবিশ্বাস ছাড়া জীবনে পথ চলা মোটেও সম্ভব নয়। আবার বেশি আত্মবিশ্বাস আমাদের ভালো মন্দকে এক করে ভাবতে বাধ্য করে। তখন প্রকৃত সমস্যাকেও আমাদের কাছে সমস্যা মনে হয় না। মোট কথা হলো-অতিআত্মবিশ্বাস আমাদের অন্ধবিশ্বাসী করে তোলে। কাজ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতা না থাকলে আত্মবিশ্বাস কোনো কাজে আসে না। আর অন্ধবিশ্বাস আমাদের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই অতি আত্মবিশ্বাসীরা নির্বিচারে সবাইকে বিশ্বাস করে ঘাটে ঘাটে মার খায়। আসলে সফলতার কোন সার্বজনীন সংজ্ঞা নেই। সফল হলেই আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি থাকবে এমনটাও কিন্তু সঠিক নয়। তা-না হলে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও ব্যক্তিরাও কেন আত্মহত্যা করবে? অভাবী মানুষের চেয়ে ধনী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই কিন্তু আত্মহত্যার পথ বেশি বেছে নেয়। আত্মতৃপ্তি ও আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আত্মঅহংকার থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে আত্মসমালোচনায় নিমগ্ন থাকা। নিজের সাথে নিজের প্রতিযোগিতা করা। নিজের দায়বদ্ধতাকে বড় করে দেখা। অন্যের পতি সহনশীল হওয়া। নিজের মতো অন্যকে ভালোবাসা।
