ইমাদ উদ দীন: মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৮৬ জন আর সংরক্ষিত সদস্য পদে ২০ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমাদানের পর যাচাই বাছাইয়ে টিকেছেন তারা। ১২১ জন প্রার্থীর মধ্যে বাদ পড়েছেন ১০ জন। যাচাই বাছাই শেষে টিকে থাকা ২১ পদে ১১৫ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়াই করবেন। তবে বাদপড়া ১০ জন আপিল আর রিভিউ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। চলছে দৌড়ঝাঁপ।
ভোটযুদ্ধে ২১ পদে টিকে থাকতে এখন মাঠে লড়াই চলছে ১১৫ প্রার্থীর। নানা কৌশলে যে যার মতো চালাচ্ছেন প্রচারণা। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ইলেক্ট্ররাল কলেজ পদ্ধতিতে ভোট হওয়ায় ভোটারের সংখ্যা কম হলেও নির্বাচনী এলাকার আয়তন বেশি। তাই সব (নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যদের) ভোটারের কাছে পৌঁছা কষ্টকর হচ্ছে প্রার্থীদের। বিশেষ করে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রত্যেক ভোটারের কাছে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই প্রচারণা চলছে রাত দিন। প্রার্থীদের এমন প্রচার প্রচারণায় স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে জেলা পরিষদের ভূমিকা ও অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে সর্বমহলে।
প্রতিটি গ্রামেও এখন জেলা পরিষদের নানা কার্যক্রম নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। চলছে বিগত দিনের নানা প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব নিকাশ। প্রার্থীদের মাধ্যমেই জানা হচ্ছে অনেক অজানা বিষয়। ভোটাররা মুখ না খুললেও দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে ভোট ও প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। প্রতীক বরাদ্দের পর আলোচনা আরো জমে উঠার পাশাপাশি ব্যস্ততা বাড়বে প্রার্থীদের। জেলার ৭টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়ন, ৫টি পৌরসভা ও ৭টি উপজেলা মিলে গঠন হয়েছে জেলা পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ড। আর তাতে রয়েছেন ৯৫৬ জন নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য (ভোটার)। তারা ২৮শে ডিসেম্বর ১৫টি কেন্দ্রেই ভোট দেবেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একজন, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের ৫ জন নারী সদস্য নিয়ে গঠন হবে জেলা পরিষদ। চেয়ারম্যান ও সদস্য মিলে ২১ পদে ১১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার কৌশলে মাঠে কাজ করছেন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে যাচাই বাছাইয়ের পর যারা টিকে মাঠে কাজ করছেন তারা হলেন।
চেয়ারম্যান পদে. বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. আজিজুর রহমান, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম শাহীন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএ রহিম (সিআইপি), ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম মৌলভীবাজারের চেয়ারম্যান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সুহেল আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি, কমিউনিটি নেতা সাহাবুদ্দিন সাবুল।
সদস্য পদে. ১নং ওয়ার্ড. আবু আহমদ হামিদুর, দেলোয়ার হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, নাহিদ আহমদ, মো. আব্দুন নূর।
২নং ওয়ার্ড. মো. নজরুল ইসলাম, মো. ফয়জুল হক, মো. সেলিম উদ্দিন, লোকমান আহমদ, শহীদুল আলম শিমুল, স্বপন কুমার চক্রবর্তী।
৩নং ওয়ার্ড. আজিম উদ্দিন, মো. ফখরুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, মো. জুবের হাসান জেবলু।
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নং-১ (১, ২, ৩) জুবেদা ইকবাল, আমেনা বেগম।
৪নং ওয়ার্ড: আব্দুল হান্নান, জুয়েল আহমদ, মো. ইমরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, বদরুল ইসলাম, জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী।
৫নং ওয়ার্ড: আব্দুল জব্বার, দেলোয়ার হোসেন, বদরুল আলম, মো. আব্দুল মতলিব, বদরুল ইসলাম, মো. ময়নুল ইসলাম, মো. ময়নুল হক, সি এম জয়নাল আবেদীন, সেলিম আহমদ।
৬নং ওয়ার্ড: খন্দকার মুহিবুর রহমান মলাই, নওয়াব আলী সাজ্জাদ খান, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মো. আব্দুল মানিক, মো. আব্দুল লতিফ, মো. আব্দুস শহীদ, মো. মুহিবুল ইসলাম আযাদ, মো. লুৎফুর রহমান।
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নং-২ (৪.৫.৬) শিরিন আক্তার, জিশান আরা বেগম, আজিবুন খানম, ফরহান বেগম চৌধুরী, মোছা. আমেনা আক্তার, মোছা. খোদাজা বেগম, শিল্পী বেগম।
৭নং ওয়ার্ড: মো. মঈনুল হক, এমএ আহাদ, নাসির উদ্দিন আহমদ, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সেলিম আহমদ।
৮নং ওয়ার্ড: বদরুল হোসেন, মো. আব্দুল হাকিম তালুকদার, মো. এহতেশামুল হক, মো. ফজর আলী, রওনক আহমেদ সৈয়দ আবুল কালাম আযাদ, হুমায়ুন আলম।
৯নং ওয়ার্ড: শেখ মাহমুদুর রহমান, আবু তাহেল রানা, এলেমান হোসেন, মো. আতাউর রহমান, মো. শাহাজান তালুকদার, মো. হুমায়ুন তালুকদার, মোহাম্মদ মবশ্বির আহমদ, শিবব্রত চক্রবর্ত্রী।
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নং-৩ (৭, ৮, ৯) রাজিয়া সুলতানা, মুক্তি চক্রবর্ত্তী।
১০নং ওয়ার্ড: আকবর আলী, মাহবুব ইজদানী, মো. মামুনুর রশিদ।
১১নং ওয়ার্ড: হাসান আহমদ জাবেদ, সুজিত দাস।
১২নং ওয়ার্ড: বিকুল চক্রবর্তী, মোছাব্বির আলী মুন্না, মো. নিয়ামুল হক তরফদার, পরিমল দাশ, মো. আফজল হক, মো. মশিউর রহমান, মো. মোমিনুল হোসেন।
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নং-৪ (১০, ১১, ১২) রহিমা আক্তার, রেজিয়া রহমান, সৈয়দা জেরিন আক্তার, সুরাইয়া ইয়াছমিন।
১৩নং ওয়ার্ড: নাজিম উদ্দিন, পংকজ আউলেসিয়োসস কন্দ, মো. আবুল বাসার, মো. বদরুজ্জামান সেলিম, শেখ মো. আব্দুল মোছাব্বির।
১৪নং ওয়ার্ড: কমলা বাবু সিংহ, গোলাম রব্বানী তৈমুর, হেলাল উদ্দিন।
১৫নং ওয়ার্ড: মো. আব্দুন নুর, মো. ইলিয়াছুর রহমান, মো. মুর্শেদুর রহমান, মো. মুহিবুর রহমান।
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নং-৫ (১৩, ১৪, ১৫) তরফদার রেজওয়ানা ইয়াছমিন, মমতা আক্তার সুমী, মুন্না দেব রায়, মেরী রাল্ফ, শেলী রানী পাল।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ১০ প্রার্থী: নানা ত্রুটি থাকায় ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে ১ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা পদে ৩ জনের গত ৩রা ও ৪ঠা ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান পদে সিনিয়র সাংবাদিক বকশি ইকবাল আহমদ, সাধারণ সদস্য পদে ৩নং ওয়ার্ডে সুব্রত কুমার দাস, ৮নং ওয়ার্ডে মো. আব্দুল আজিজ বদরুল, ১০নং ওয়ার্ডে আব্দুল মতিন, ১১নং ওয়ার্ডে মো. ইমরান, ১২নং ওয়ার্ডে আমরেন্দ্র দেবনাথ, ১৩নং ওয়ার্ডে মো. হেলাল মিয়া, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩নং ওয়ার্ডে. রাকিবা সুলতানা তালুকদার ৪নং ওয়ার্ডে মিতালি দত্ত ও ৫নং ওয়ার্ডে রোকশানা আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে অনেকেই আপিল ও রিভিও করেছেন বলে জানিয়েছেন। তথ্য জালিয়াতি করে মনোনয়নপত্র দাখিল, পরে প্রত্যাহার
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি. বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য পদে তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ মাস্টারের পুত্র মাহমুদ রিয়াদ শামীমের স্ত্রী নাজনীনের বিরুদ্ধে তার হলফনামায় তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিলের অভিযোগ উঠেছে।
বাছাইয়ে প্রার্থী বৈধ হলেও গোপনীয় তথ্য ফাঁস হওয়ায় ৮ই ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ২৫ বছর বয়স বাধ্যতামূলক। নাজনীনের জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ২৫ বছর না হওয়ার কারণে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা জালিয়াতি করে বয়স বাড়িয়ে হলফনামা দাখিল করেছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করেন ৩১শে অক্টোবর ১৯৯১। আর সেই অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রে ও ভোটার তালিকায় ওই একই জন্ম তারিখ কম্পিউটার দিয়ে লিখিয়ে নেন নাজনীন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী নাম, নাজনীন, পিতা- আতিকুর রহমান, স্বামী- মাহমুদ রিয়াদ শামীম, মাতা- কুলসুম। জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ১৯৯১০৪১৯২৭৯০০০০২৮। জন্ম তারিখ ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৯১, গ্রাম- হেলেঞ্চাবাড়িয়া, উপজেলা- তালতলী, জেলা- বরগুনা। কি করে তিনি বাছাইতে টিকলেন জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. দুলাল তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে আমরা যে ভোটার তালিকার সিডি দিয়েছি, প্রার্থীদের সেই ভোটার তালিকাই জমা দেয়ার কথা। কিন্তু এই প্রার্থী কিভাবে তা জালিয়াতি করেছে তা আমরা না জানায় বাছাই পর্বে সে বৈধ হয়। তবে এ ব্যাপারে যে কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
