নিউজ ডেস্কঃ
‘উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হওয়া’র অভিযোগে সিঙ্গাপুরে গত এপ্রিল মাসে আট জন
বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ ।
সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত
দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে , তারা ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ’ (আইএসবি)
নামে একটি গোপন গোষ্ঠীর সদস্য। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র
করছিল, এমন অভিযোগে সিঙ্গাপুরে দুই দফায় উগ্রপন্থী বাংলাদেশিদের
গ্রেপ্তারের পর সেখানে থাকা প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে
শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ সেখানে অবস্থানরত আটজন
বাংলাদেশিকে আটক করেছে। সেখান থেকে ফেরত পাঠানো আরও পাঁচজন বাংলাদেশিকেও
গতকাল ঢাকার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর আগে জানুয়ারিতে একই ধরণের অভিযোগে
২৭জনকে আটকের পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির
সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহেদুজ্জামান বলছেন, ”যদিও এরা খুবই ক্ষুদ্র একটি
গোষ্ঠী, কিন্তু বারবার এ ধরণের ঘটনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ কম্যুনিটির উপর
কোন প্রভাব পড়ে কিনা, তা নিয়ে তারা আশঙ্কায় রয়েছেন।” তিনি বলছেন,
”সিঙ্গাপুরে সবাই খুবই শান্তিপূর্ণ। ধর্ম বর্ণ নির্বিষেশে কাউকে কটাক্ষ
করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু পরপর দুইটি ঘটনায় সিঙ্গাপুরিয়ানদের মধ্যে
হয়তো বাংলাদেশীদের নিয়ে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে।”
শাহেদুজ্জামান আরও বলছেন, ”আরো অনেক দেশের কর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের
প্রতিযোগিতা করেই সিঙ্গাপুরে কাজ করতে হয়। যখন নিয়োগকর্তারা দেখবে যে,
বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে এ ধরণের প্রবণতা আছে, তখন তারা হয়তো বিকল্প
চিন্তা করবে। হয়তো অন্য দেশের কর্মীদের বেশি সুবিধা দেবে।” সিঙ্গাপুর থেকে
এখন প্রতিমাসে ৪২ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে যায়, যা
রেমিট্যান্সের দিক থেকে তৃতীয়। এ রকম ঘটনার পর যদি তারা কর্মী আনা কমিয়ে
দেয় বা ভিসা কঠিন করে দেয়, তার প্রভাব সবক্ষেত্রেই পড়বে বলে আশঙ্কা
করছেন সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ সোসাইটির এই সাবেক সভাপতি। আটককৃতরা একটি জঙ্গি
গোষ্ঠীর সদস্য বলে পুলিশ দাবি করছে। সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে
আটক বাংলাদেশিরা ইসলামি স্টেট ইন বাংলাদেশ নামে একটি গোপন দলের সঙ্গে
যুক্ত। এ ঘটনা সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যমেও বেশ আলোচিত হচ্ছে।
