স্পোর্টস ডেস্কঃ ফুটবল-ভক্তদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দিন কোনটি? ইস! লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যদি এক দলে খেলতেন! সেই সম্ভাবনা অবশ্য খুব শিগগিরই পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবে মেসি-রোনালদো ফুটবল মাঠে না খেলে ২২ গজে খেললে কী হতো সেটা দেখা গেল কালকে। বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স যখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, তখন তো সেরকমই মনে হচ্ছিল। অন্তত জস বাটলারের তো বটেই!
ঝড়, টর্নেডো, সাইক্লোন—এসব শব্দও আসলে কম হয়ে যায়। ডি ভিলিয়ার্স ও কোহলি মিলে কাল যা করেছেন, সেটা তার চেয়েও বেশি কিছু। শুরু থেকেই আগ্রাসী ডি ভিলিয়ার্স সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র ৪৩ বলে। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে অপরাজিত ছিলেন ১২৯ রানে, তাতে ছক্কা ১২টি, চার দুটি কম। তুলনায় কোহলি এগোচ্ছিলেন ‘ধীরে’ চলো নীতিতে। ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরির সময়ে তাঁর রান ছিল ৪০ বলে ৫১। কিন্তু এরপর ১০৯ রানে আউট হওয়ার আগে আরও ৫৮ রান করেছেন মাত্র ১৪ বলে! টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ২২৯ রানের জুটি—কোহলি-ডি ভিলিয়ার্স কী করেছেন কিছুটা তাতে বোঝা যাচ্ছে।
দুজনের ব্যাটিংয়ের সময়েই টুইট করার ধুম পড়ে যায়। অ্যালবি মরকেল যেমন অবিশ্বাসে চোখ কচলেছেন, ‘আসলে কী হচ্ছে সেটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না!’ ডেভিড ওয়ার্নার সরাসরিই বলে দিয়েছেন, ‘অবশ্যই এই সময়ের সেরা দুই ব্যাটসম্যান ওরা। টি-টোয়েন্টিতে আর কবে দুজন ব্যাটসম্যান এক ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছে!’ স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এর আগে এক বার এমন হলেও আইপিএলে হয়নি।
তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ইংলিশ ব্যাটসম্যান জস বাটলারের প্রতিক্রিয়াটাই ছিল সবচেয়ে মজার, ‘মনে হচ্ছে যেন মেসি-রোনালদো একসঙ্গে খেলছে।’ পরে সেখানে মন্তব্যের ঝড় শুরু হয়ে যায়। কেউ কেউ মনে করিয়ে দেন, ফুটবলে মেসি-রোনালদোকে কখনোই একসঙ্গে দেখা যাবে না।
কী আর করা, আপাতত ক্রিকেটের ‘মেসি-রোনালদোকে’ একসঙ্গে দেখেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হবে। কিন্তু কোহলি আর ডি ভিলিয়ার্সের মধ্যে কে মেসি, আর কে রোনালদো—সেটা কিন্তু বাটলার বলেননি!
