সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রিটের চূড়ান্ত শুনানি ২৭ মার্চ

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রিটের চূড়ান্ত শুনানি ২৭ মার্চ
নিউজ ডেস্কঃ ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনীত রিট মামলাটি গত সোমবার শুনানির জন্য হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে উঠেছিল। আদালত রিট আবেদনের রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির জন্য আগামী ২৭ মার্চ দিন ধার্য করে দিয়েছে। একইসঙ্গে অ্যামিকাসকিউরিদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে আদালত। বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গতকাল এই আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। রিটকারীপক্ষের আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক সাংবাদিকদের বলেন, আদালত ১৪ জন অ্যামিকাসকিউরি নিয়োগে হাইকোর্টের আদেশ সাময়িক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে পরে রুলের শুনানিতে অল্পসংখ্যক অ্যামিকাসকিউরির নাম ঘোষণা করতে পারে আদালত। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী পাস করা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করে সরকার। ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের আগষ্ট মাসে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনসহ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তাতে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে বহাল রাখে। এই সংশোধনীর ২(ক) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন দাখিল করে রিটকারীপক্ষ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে পৃথক দুটি রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে সিনিয়র ১৪ আইনজীবীকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়। রিট দায়েরের দীর্ঘ ২৮ বছর পর রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য গতকাল হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে আসে। শুরুতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিককে আদালত বলে, ১৯৮৮ সালের রিটের সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে দুটি রুল জারি হয়েছে। যেহেতু অষ্টম সংশোধনী নেই, তাহলে কোন রুলটি শুনানির জন্য রাখব? রিটকারী পক্ষের আইনজীবী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার প্রশ্নে যে রুল জারি করেছে ওটির ওপর শুনানি করতে চাই। আদালত বলেন, ঠিক আছে। তবে ১৯৮৮ সালে রিট দায়ের করেছিল ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’। এ ধরনের রিট আবেদন করার এই সংগঠনের এখতিয়ার রয়েছে কি? আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনার পরে রুল জারির বিষয়টি কিভাবে দেখব? রুলের শুনানিকালে এই দুটি প্রশ্নের জবাব আপনারা দেবেন। এরপরই ২৭ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করে দেয় আদালত। শুনানিকালে অ্যামিকাসকিউরি ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে রিট আবেদনকারীদের অন্যতম অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান গতকাল বিবিসিকে বলেন, দীর্ঘদিন পর এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হওয়ায় তিনি অত্যন্ত খুশি। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে দেশে বিভক্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমরা মনে করি ওই সংশোধনী ছিলো সংবিধানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। আমরা যারা রিট আবেদন করেছিলাম তাদের অনেকেই এখন জীবিত নেই। অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এ ধরনের একটি মামলা দীর্ঘদিন ফেলে রাখা যায় না। এজন্য এটি শুনানির জন্য এসেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post