নিউজ ডেস্কঃ কলকাতার ‘দোহার’ বলব না কালিকার ‘দোহার’! যার ই বলি না কেন-বছর ব্যাপি করিম উৎসবের সিলেট পর্ব যে তারা রিতিমতো মাতিয়ে গেছে, এতে দ্বিমত পোষনের লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্করই হবে। শুক্রবার রাতে স্টেডিয়াম পাড়ায় নেমেছিল মানুষের ঢল। করিম উৎসবের শেষ দিনের শেষ পরিবেশনায় ছিল লোকসঙ্গীতের ব্যান্ড দল ভারতের ‘দোহার’। এর কর্ণধার কালিকা প্রসাদ বাউল আব্দুল করিমের প্রবল অনুরাগী। পশ্চিম বঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, এবং মেঘালয় রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য তিনি আব্দুল করিমের গান করে যাচ্ছেন নিয়মিত। ইদানিং তিনি ও তার ‘দোহার’ বেশ জনপ্রিয়ও। সেই কালিকা সদলবলে সিলেট এসে গাইলেন, গাওয়ালেন এবং নাচালেন। করিমকে নিয়ে তার মৃত্যুর পর তারা একটা গান বেঁধেছিলেন এবং কলকাতার গোর্কি সদনে সেটা গেয়ে ছিলেন। সেই গান কে তিনি গান নয়, শুরুতেই দর্শকদের জানিয়ে দিলেন সেটা একটা পুঁজো, প্রার্থনা বা বন্দনা। সেই বন্দনায় উপস্থিত দর্শকদের শরীক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা শুরু করলেন-‘গানে গানে ছন্দে দোহার বন্দে’। আব্দুল করিমের অসা¤প্রদায়িক চেতনা এবং জীবন কথা, কথা ও সুরে চমৎকার বেঁধেছে ‘দোহার’। এরপর গাইলেন করিমের বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’। তারপর একে একে ‘বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে’ ‘হুরু থাকতে যে খেইড় খালাইতাম’, ‘মন মজালে ওরে বাউলা গান’ ‘ এই দেশেতে স্বার্থপরদের চলতেছে রঙ্গের খেলা’,‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’ ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাওগো’, ‘মুর্শিদ ধনো হ্যাঁ কেমনে চিনিব তোমারে’ এবং ‘গাড়ি চলেনা চলেনা চলেনা রে’। মুল গানের কথা ও সুর ঠিক রেখে ‘দোহার’ প্রতিটি গান গেয়েছে নিজস্ব ঢঙ্গে। এ দলটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে, তাদের যন্ত্র গুলো সব আমাদের দেশীয় এবং অতি পরিচিত। হারমোনিয়াম, একতারা, ঢোল, মন্দিরা ইত্যাদিতে তারা সুরের ইন্দ্রজাল তৈরি করে দর্শক মোহিত করে ফেলে এবং নাচাতেও পারে। শেষ দ’ুতিনটি গানের সাথে বিশাল সামিয়ানার নিচে দলে দলে নাচতে দেখা গেছে, ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ এমন কি চরম পেশাদারিত্বের মোড়কে সব সময় নিজেদের আবেগ অনুভূতি ঢেকে রাখা সাংবাদিকদেরও। আর গানের মূল সুর অবিকৃত রেখে তাতে বিভিন্ন কারুকাজ দিয়ে উপস্থাপনায়ও তাদের জুড়ি মেলাভার। গানের সাথে সাথে দর্শকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন কালিকা। শুরু শুদ্ধ বাংলা দিয়ে। এরপর সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায়ও। কথায় কথায় জানালেন বাউল আব্দুল করিম দর্শণ ও তার সঙ্গে মেশার কারনেই আজ তার জীবনের মোড় ঘুরে গেছে। সে জন্য কথায় কথায় বার বার কৃতজ্ঞতাও জানালেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্য্যায়ে কালিকা প্রসাদ একে একে তার সিলেটি বন্ধুদের মঞ্জে আহŸান করেন নাম ধরে ধরে। এ তালিকায় আছেন জামালউদ্দীন হাসান বান্না, আমিনুল ইসলাম লিটন, যাদন সহ আরো কয়েকজন। এ সময় দর্শকসারিতে বসা নাট্যকার স্থপতি শাকুর মজিদকেও মঞ্চে ডাকেন তিনি। এবং দর্শক সহ সবাই মিলে শেষ গান ধরেন ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়’। উলেখ্য, ২০০০ সালে ‘দোহার’ গঠনের আগে সিলেট বেড়াতে এসে নাট্যসংগঠন কথাকলি’র সদস্যদের সঙ্গে গড়ে উঠা তার আন্তরিক বন্ধুত্বের কথা বার বার শ্রোতা দর্শকদের জানিয়েছেন কালিকা প্রসাদ। পাশাপাশি ২৮ ও ২৯ ফেব্র“য়ারী তার নিজের শহর আসামের শিলচর এবং পরবর্তীতে কলকাতার করিম উৎসবের আমন্ত্রন ও জানিয়ে গেলেন কালিকা প্রসাদ এবং ‘দোহার’।
