কুলাউড়ায় ইউএনও নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে সফি আহমদ সলমানের ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরন মামলা

কুলাউড়ায় ইউএনও নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে সফি আহমদ সলমানের ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরন মামলা
এম. মছব্বির আলী: কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সদ্য বিদায়ী) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান (১৫৫৪৪) এর বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরন মামলা দায়ের করেছেন কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এ কে এম সফি আহমদ সলমান।
১৭ জানুয়ারী যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালত, মৌলভীবাজারে সফি আহমদ সলমান এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১। মামলায় মূল বিবাদী মোহাম্মদ নাজমুল হাসান (১৫৫৪৪) সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুলাউড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা। স্থায়ী ঠিকানা ঃ গ্রাম ও ডাক ঃ বাহাদিয়া, উপজেলা ঃ পাকুন্দিয়া, জেলা ঃ কিশোরগঞ্জ করলেও মোকাবিলা বিবাদী করা হয়েছে জেলা নির্বাচন অফিসার মৌলভীবাজার ও রিটার্নিং অফিসার কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫, জেলা নির্বাচন অফিস, মৌলভীবাজার, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার, কমিশনার সিলেট বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় (সংস্থাপন শাখা) সিলেট, সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা এবং সচিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকাকে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে ১নং বিবাদী নিজ পদ পদবী ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে রিটার্ণিং অফিসারের নির্বাচনী কার্যক্রমে বেআইনী হস্তক্ষেপ (usurp) করে উক্ত পৌর নির্বাচনে অন্যায় ও বেআইনী প্রভাব বিস্তারে বাদীর নির্বাচনী ফলাফলে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বাদীকে জনসাধারন্যে, সমাজে, এলাকায়, নিজ ব্যবসায়ীক অবস্থান ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলে ভাবমূতি (image) মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন ক্ষতিগ্রস্থ (damage) করায় damage এর ক্ষতি পূরণ বাবদ বিবাদী থেকে ১ কোটি টাকা পাওয়ার এবং ১নং বিবাদী কর্তৃক বর্ণিতমতে বাদীর মান সম্মান ক্ষুন্ন ও হানি অর্থ্যাৎ মানহানী (defamed) করে বাদীকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন সেই ক্ষতির পরিমাণ ন্যুনতম ১ কোটি টাকা। মোট ২ কোটি টাকা বাদী ১নং বিবাদী থেকে পাওয়ার দাবী করেন।
মামলার বাদী এ কে এম সফি আহমদ সলমান এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পূর্ববর্তী আমলাবধী বাদীর পরিবারের পূর্বপুরুষ অবিভক্ত ভারত, তৎপর পাকিস্তান আমলে, অতঃপর বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদস্থ তথা শিক্ষাবিদ, তথ্য সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য চিকিৎসাবিদ হিসাবে উচ্চ পদমর্যাদায় আসীন ছিলেন ও আছেন। সে কারণ বাদীর পরিবার এতদঞ্চলে জ্ঞান ও গরিমায় ও মর্যাদাশীল পরিবার হিসাবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। এবং তৎ ধারাবাহিকতায় বাদী অক্ষুন্ন রেখে ছাত্রজীবনে অতঃপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কার্যক্রমে ও ছাত্র সংগঠনে সংশি¬ষ্ট থেকে দীপ্ত ভূমিকায় নিবেদিত থাকেন। বাদী এম.এ.এল.এল.বি ডিগ্রী লাভ করে রাজনীতি ও মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে সমাজকল্যাণে নিয়োজিত থাকেন। বাদী বিভিন্ন সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পদ পদবীতে যশ ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করিয়া আসছেন।
বাদী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড তথা অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসাবস্থায় স্থানীয় পল¬ী চিকিৎসকদের পদ পদবী অর্থাৎ ডাক্তার পদবী ব্যবহার সম্পর্কে সরকারী নীতিমালার বৈধতা চেলেঞ্জ করে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার সমিতির সভাপতি কর্তৃক মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে writ petition No.15805 of 2012 দায়ের করলে তাহাতে মহামান্য আদালত কর্তৃক রুল ইস্যু হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক DUMS/RMP ডিক্রীধারী ÔDr’ পদবী ব্যবহারে পেশায় নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে আইনী কার্যক্রম ব্যতিরেকে গ্রেফতার কিংবা গ্রেফতারের জন্য হুমকি কিংবা কোন রূপ ফৌজদারী কার্যক্রম পরিচালিত না করার মর্মে বিগত ৩/১২/২০১২ইং তারিখে আদেশ হয়ে অতঃপর উক্ত আদেশ বিভিন্ন তারিখে বর্ধিত হয়ে বলবৎ থাকা স্বত্বেও ১নং বিবাদী কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে পল্লী চিকিৎসক DUMS/RMP ডিক্রীধারীদের প্রকাশ্যে হয়রানী ও হেনস্থা ও জরিমানা করায় বাদী বিভিন্ন সভা সমাবেশে ঐ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে তিনি বাদীর প্রতি অতীব রুষ্ট থেকে বাদীকে হেয় ও ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। বাদীর ঐরুপ প্রতিবাদ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্র ও পত্রিকায় প্রচারিত হলে মূল বিবাদী কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাদীর প্রতি অধিকতর আক্রোষান্বিত ও রুষ্ট হয়ে উঠেন।

বিগত ৩০ ডিসেম্বর তারিখে কুলাউড়া মেয়র নির্বাচনের প্রাক্কালে বাদী স্থানীয় কাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে পৌরনির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর বরাদ্দকৃত নৌকা প্রতীক নিয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতায় অবতীর্ণ হলে বাদীর প্রতি পূর্ব ঈর্ষান্বিত ১নং বিবাদী বাদী যাতে মেয়র পদে নির্বাচিত হতে না পারেন তদ ব্যাপারে ১নং বিবাদী তাহার সরকারী পদ পদবী অপব্যবহার করে বাদীর বিরুদ্ধে স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজসে নানাভাবে ক্ষতিকর কার্যে প্রকাশ্যে desparately লিপ্ত হওয়ায় বাদী একান্ত বাধ্য হয়ে বিগত ৬ ডিসেম্বর তারিখে তাঁহার অশুভ ও বেআইনী কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ১নং বিবাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুলাউড়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তৎ কারণে ১নং বিবাদী বাদীর প্রতি অধিকতর রুষ্ট হয়ে বাদীকে মেয়র নির্বাচনে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে স্বয়ং এবং তদ অধীনস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশি¬ষ্ট আইন শৃংখলা বাহিনীর কতেক কর্মকর্তাকে নিজ পদ ও পদবী ব্যবহার করে সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় বাদীর বিরুদ্ধে নানা রুপ কার্যকলাপে ও ভয়ভীতি সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত হন। বাদীর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের মধ্যে মেয়র পদে ও বাদীর একই রাজনৈতিক দলের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফি আলম ইউনুছ এর পক্ষালম্বন করে ও উক্ত ব্যক্তি থেকে নৈতিকতা বিবর্জিত ভাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে উক্ত প্রার্থীর সাথে প্রকাশ্যে এক্কাট্রা হয়ে বাদীর বিরুদ্ধে নানাভাবে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে বৈরীসুলভ কার্যক্রমে বিরোধিতায় লিপ্ত হন। এমন কি বাদীকে জনমনে ও সামাজিকভাবে তথা ভোটারদের কিট হেয় প্রতিপন্ন ও অপদস্থ করে বাদীকে নির্বাচনে পরাজিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে বাদীর বিরুদ্ধে নানান অশ¬ীল কুৎসা রটনা করতে ১নং বিবাদী কোনভাবে কুণ্ঠিত হননি। তাছাড়া শাহজালাল আইডিয়াল মেধা প্রকল্পের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে বাদী কুলাউড়া উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থী ও পৌর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা প্রদানের জন্য কুলাউড়া জনমিলন কেন্দ্রটি ২৫ ডিসেম্বর তারিখে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার নিমিত্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ১নং বিবাদীর নিকট বিগত ১৭ ডিসেম্বর তারিখে বাদী কর্তৃক প্রেরিত কুলাউড়া নিবাসী আতাউর রহমান ছোহেল এল.এল.বি অনার্স এল.এল.এম ও মোঃ জহিরুল ইসলাম এম.এ ব্যক্তিদ্বয়কে ইউএনও অফিসে ১নং মূল বিবাদীর নিকট প্রেরণ করলে তথায় উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে কোন ভাবেই ঐ কেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া যাবেনা।’’ এই বলিয়া সাথে সাথেই আবেদন পত্রটি ছুড়িয়া ফেলেন।
বিবাদী কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় এর সংস্থাপন শাখায় বিগত ২২ নভেম্বর তারিখের স্মারকযুক্ত পত্র মূলে অন্যত্র বদলীর আদেশে ‘জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে’ মর্মে উল্লেখে নির্দেশনা থাকা স্বত্বেও ১নং বিবাদী অদৃশ্য কারণে উক্ত আদেশের পরাবধি মেয়র নির্বাচনের পর পর্যন্ত ঐ পদে বহাল থেকে ১নং বিবাদী ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে ২নং বিবাদী রিটার্নিং অফিসারের কার্যক্রমে অন্যায় হস্তক্ষেপ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুলাউড়া এর কার্যালয় সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম প্রকাশ্যে বেপরোয়াভাবে পরিচালনা করেন। এমন কি উক্ত কার্যালয়ে বাদীর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সমর্থকদের নিয়া প্রায় নিয়মিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করিয়া বাদীকে নির্বাচনে পরাজিত করতে নানা অকৌশল গ্রহণ করেন। বাদী কর্তৃক প্রাক বর্ণিকমতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়েরের কারণে ১নং বিবাদীকে কুলাউড়া মেয়র নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব না দেওয়া স্বত্বেও ১নং বিবাদী সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে বাদীকে নির্বাচনে পরাজিত করার নীল নকশা হিসাবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার সহিত নির্বাচনের পূর্বদিবস অর্থাৎ ২৯/১২/২০১৫ইং তারিখে বিভিন্ন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর প্রয়োজনে মেজিষ্টারিয়েল দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্ব বন্টন করে দিয়ে তাদের ১নং বিবাদী অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করে তিনি নির্বাচনের দিন বেআইনীভাবে সরকারী অফিস আদালত বন্ধ থাকা সত্বেও নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ খোলা রেখে ব্যবহার করে বাদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য নানাভাবে নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বেলা দেড়টার পর ১নং বিবাদী নিজ পরিচয় গোপন রাখার অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানীয় ‘সেবা এম্বুলেন্স’ এর কালার গ্লসযুক্ত নম্বরবিহীন (On Test) নাম্বার প্লেইট এম্বুলেন্সে নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে উক্ত এম্বুলেন্সে তার সঙ্গীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী মখলিছুর রহমানকে নিয়া প্রতি কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিষ্ট্রেটকে এম্বুলেন্সে ডেকে এনে বাদীকে পরাজিত করার জন্য প্রয়োজনে বাদীর কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের যে কোনভাবে ভীতি প্রদর্শন ও প্রয়োজনে ত্রাস সৃষ্টি করার পরামর্শ দিয়ে গেলে তারা অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যকে ব্যবহার করে নির্বাচনী কেন্দ্র সমূহে ত্রাস সৃষ্টি করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। ফলে নির্বাচনী কেন্দ্রের আশপাশে থাকা বাদীর নির্বাচনী কর্মী সমর্থকগণ প্রাণভয়ে ভোটকেন্দ্র সমূহ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। এমনকি ২নং ওয়ার্ডের বন্যা আশ্রয় শিবির ভোট কেন্দ্র, ৬নং ওয়ার্ডের জয়পাশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৭নং ওয়ার্ডের আমির ছলফু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৫নং ওয়ার্ডের কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বাদীর নির্বাচনী এজেন্টদেরকে প্রায় বেলা ২টায় বের করে দেয়া হয় এবং সৃষ্ট ভয়ভীতির কারণে নিরীহ শান্তিপ্রিয় বাদীর সমর্থিত ভোটারগণ নির্বাচন কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি এবং এহেন পরিস্থিতিতে বাদীর সমর্থিত অনেক ভোটার নির্বাচনী কেন্দ্র সমূহ থেকে আত্মসম্মান ও হেনস্থা হওয়ার ভয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে চলে যেতে বাধ্য হন এবং বাদীর সমর্থিত অনেক ভোটার নির্বাচনী কেন্দ্র সমূহে উপস্থিত হতে পারেন নাই, এহেন পরিস্থিতিতে বাদীর অনেক ভোটার ভোট প্রদান করতে পারেননি। সর্বোপরী ভোট গণনা কালে ১নং বিবাদীর নির্দেশক্রমে সৃষ্ট ত্রাস ও অন্যায় প্রভাব বিস্তার ও হস্তক্ষেপের কারণে ভোট গণনার পরিস্থিতি বিঘিœত করে অবৈধভাবে বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে বেআইনী ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তৎ সম্পর্কে বাদী তাৎক্ষণিক ভাবে রিটার্ণিং অফিসার ২নং মোকাবিলা বিবাদী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

বাদীর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের বিশেষ করে নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী শফি আলম ইউনুছের সাথে ১নং বিবাদী প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র করিয়া এবং ১নং বিবাদী বাদীকে নির্বাচনে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে ঐ প্রার্থীকে নিয়া ১নং মূল বিবাদী তার কার্যালয়ে কখনও প্রকাশ্যে কখনও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। নির্বাচনের পূর্ব দিন ২৯ ডিসেম্বর তারিখে ঐ শফি আলম ইউনুছ কর্তৃক প্রাইম ব্যাংক কুলাউড়া তদীয় একাউন্ট থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রভাবিত করার জন্য ঐ প্রার্থী থেকে ১নং মূলবিবাদী গ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে ১নং মূলবিবাদী কুলাউড়া হতে বিগত ২২ নভেম্বর তারিখে বদলীর আদেশ হওয়া সত্বেও বাদীকে নির্বাচনে পরাজিত করার হীনমানসে নির্বাচন পর্যন্ত কুলাউড়া অবস্থান করে কুলাউড়া থেকে চলে যান।

মূল বিবাদী এহেনভাবে পৌরনির্বাচনে বাদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে ঐ নির্বাচন স্বচ্ছ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। না হলে বাদী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতেন। বাদী একাধারে তিন তিন বারের মত নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াররম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আত্মপ্রত্যয় নিয়ে ও নিশ্চিত হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতায় অংশগ্রহণ করার পর থেকে ১নং বিবাদী বাদী প্রতি পূর্ব আক্রোশের জের ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পদবী সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধভাবে এবং নিয়মনীতি ভঙ্গ করে অপব্যবহার ক্রমে ও ২নং মোকাবিলা বিবাদীর ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ ও usurp করে উপরে বর্ণিতমতে বাদীকে মেয়র পদে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সর্বপ্রকার অপকৌশল প্রয়োগ করায় বাদী একদিকে শারিরীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ (damaged) হয়েছেন অন্যদিকে পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অনুসৃত ও বাদীর লালিত বহু ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত যশ, সুনাম, মর্যাদা ও মানসম্মান মারাত্মকভাবে হানি ঘটিয়েছেন। বাদীর পারিবারিক ঐতিহ্য, যশ ও সুনাম তার জীবনমান বিকশিত হওয়ার অন্যতম সোপান, জীবনের অতি মূল্যবান সম্পদ ও সঞ্জিবনী শক্তি হয় যাহা ১নং মূল বিবাদীর এহেন কার্যকলাপের দরুন মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন ও বিনষ্ট হয়েছে। সর্বজন বিদিত দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব বাদীর অবস্থানকে ১নং বিবাদী এহেন অন্যায়, বেআইনী কর্মকান্ডের দরুন ক্ষতিগ্রস্থ (damaged) ও মানহানী (dafame) হওয়ায় বাদী মানসিক শারিরীক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বিপর্যস্থ হওয়ায় বাদীর নিজ ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে অক্ষম হইয়া পড়িয়াছেন। নির্বাচনে বাদীর অনাকাঙ্খিত পরাজয়ে বাদীর জীবনযাত্রা ব্যবসা বাণিজ্য সূদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার স্থল দাড়িয়েছে।

মূল বিবাদী নিজ পদ পদবী ক্ষমতার অপব্যবহার ক্রমে ও ১নং মূলবিবাদীর কার্যকারণে ও বাদীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপিমূলক কার্যকলাপের দ্বারা সুনাম, সামাজিক অবস্থান, ঐতিহ্যের ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে ১নং মূলবিবাদী যেই ক্ষতি সাধন (damaged) করেছেন সেই ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকা এবং ১নং মূলবিবাদী কর্তৃক বর্ণিতমতে বাদীর মানসম্মান ক্ষুন্ন ও হানি অর্থাৎ মানহানি (damaged) করে বাদীকে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন সেই ক্ষতির পরিমাণ ন্যূনকল্পে ১ কোটি টাকা মোট ২ কোটি টাকা যাহা বাদী ১নং মূল বিবাদী থেকে আইনতঃ ও ন্যায়তঃ পাওয়ার অধিকারী হন।

Post a Comment

Previous Post Next Post