স্টাফ রিপোর্টারঃ নব-নির্বাচিত পৌর মেয়রদের মধ্যে ৪০ জন বিদ্যালয়ের গণ্ডিই পার করতে পারেননি বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। তাদের হিসাবমতে নির্বাচিত মেয়রদের ১৭.১৬ শতাংশেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে। এর ফলে স্থানীয় সামজিক, সাংস্কৃতিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সঠিকভাবে উন্নয়ন হবে কিনা তার সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মোট মেয়রদের মধ্যে ৩০ জন (১৬.৫৭ শতাংশ), বিএনপির ৩ জন (১২.৫ শতাংশ) এবং স্বতন্ত্রের ৭ জনই (২৫.৩৯ শতাংশ) মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করেত পারেননি। উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ সমর্থীত ২ জন নির্বাচিত মেয়রের শিক্ষাগত যোগ্যতা তার হলোফনামায় উল্লেখ নেই। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে নবনির্বাচিত মেয়রপ্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সুজন। ‘পৌরসভা নির্বাচন: কেমন মেয়র পেলাম’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নতুন পৌর মেয়রদের মধ্যে ৯৫ জনের (৪০.৭৭ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের ৭৩ জন (৪০.৩৩ শতাংশ), বিএনপির ১৩ জন (৫৪.১৬ শতাংশ) এবং স্বতন্ত্রের ৮ জন (২৯.৬৩ শতাংশ)। জাতীয় পার্টি থেকে যিনি নির্বচিত হয়েছে, হলফনামা অনুযায়ি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। মেয়রদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার হার আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপিতে বেশি। অপরদিকে নিরক্ষর বা স্বল্প শিক্ষিতের হারের দিক থেকে আওয়ামী লীগের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগে এই হার ১৬.৫৭ শতাংশ এবং বিএনপিতে ১২.৫ শতাংশ। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে থেকে বিগত পৌর নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে কিছুটা মানোন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রদের মধ্যে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর শতকরা হার ছিলো ৩৬.৮৪ শতাংশ, এবার তা ৪০.৭৭ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। পাশাপাশি নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত মেয়রের হার ছিলো ২১.৪৫ শতাংশ, এবার যা কমে ১৭.১৬ শতাংশ হয়েছে। সুতরাং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে বিগত পৌর নির্বাচনের তুলনায় এবার কিছুটা মানোন্নয়ন হয়েছে।’‘ভোটারদের মধ্যে শিক্ষিত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিকল্প প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ কম ছিলো বলেও তিনি মনে করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ‘সুজনের সভাপতি এন হাফিজ উদ্দিন খান, নির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মুসবাহ আলী, দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।’ উল্লেখ্য যে, মোট ২৩৫টি পৌরসভায় নির্বাচন হলেও এই বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ২৩৩ জন মেয়রের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে সুজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ পৌরসভার বিজয়ী স্বতন্ত্র মেয়র মোহাম্মদ হানিফের হলফনামার স্থলে মো. সাইফুল ইসলামের হলফনামা রয়েছে। এছাড়া মাদারীপুর জেলার শিবচর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত বিজয়ী মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খানের হলফনামাও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নেই।
