বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনায় ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ

বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনায় ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ
নিউজ ডেস্কঃ ইহকালের কল্যাণ আর পরকালের মুক্তির পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহ'র শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্যদিয়ে শেষ হলো ৫১তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। রোববার সকালের ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি। দোয়া শেষে সবার মাঝে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করেন তারা। আখেরি মোনাজাতে লাখ লাখ মুসল্লির 'আমিন আমিন' ধ্বনিতে প্রকম্পিত টঙ্গীর তুরাগ তীর। আত্মশুদ্ধি ও পাপ থেকে মুক্তি কামনা করা হয় আখেরি মোনাজাতে। তীব্র শীত ও নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে টঙ্গীর তুরাগ তীরে তিন দিন অবস্থানের পর আখেরি মোনাজাতে সর্বশক্তির আধার আল্লাহর কাছে চিরায়ত চাওয়া সবার মঙ্গল. মুসলিম উম্মাহর শান্তি। প্রতিবারের মতো এবারো লাখো মুসল্লিকে সঙ্গে নিয়ে আখেরি মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন, ভারত থেকে আসা তাবলীগ জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ সা'দ। আখেরি মোনাজাতে চাইলেন আত্মশুদ্ধি অর্জনের শক্তি। জানালেন অতীতের সব অপরাধ থেকে ক্ষমা লাভের আকুতি। প্রায় চল্লিশ মিনিটের এ মোনাজাতে অংশ নেন সব বয়সী, সবশ্রেণি পেশার মানুষ। তুরাগ তীরের বিশাল ময়দানে ঠাঁই না পেয়ে মুসল্লিদের অনেকেই অবস্থান নেন আশেপাশের সড়ক মহাসড়কসহ বিভিন্ন জায়গায়। জনসমুদ্রে বসে অনেকে স্রষ্টার কাছে জানিয়েছেন ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কথাও। ১৫ জানুয়ারি দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বাকি জেলার মুসল্লিদের নিয়ে শুরু হবে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

আখেরি মোনাজাত শেষে ঘরমুখী মুসল্লির ঢল: এদিকে প্রথম পর্বের ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই রাস্তায় মানুষের ঢল। মোনাজাত শুরুর আগ পর্যন্ত বাগতে থাকে মানুষের চাপ। সবার চেষ্টা ছিল মুল ময়দানের যত কাছে থেকে মোনাজাতে অংশ নেয়া যায়। আর মোনাজাত শেষে ফিরতি পথে যানবাহন সংকটের কারণে কিছুটা দুর্ভোগ থাকলেও বিশেষ এ মোনাজাতে অংশ নিতে পেরে সন্তুষ্ট মুসল্লিরা। কুয়াশা উপেক্ষা করে শীতকে হার মানিয়ে এ যাত্রা আখেরি মোনাজাতে শরীক হতে। চোখের জলে মনের আর্জি বিধাতাকে নিবেদন করতে। রোববার ভোরে তুরাগ তীর-মুখী জনস্রোত বিপরীতমুখী হয় মোনাজাত শেষের সঙ্গে সঙ্গেই। জনস্রোত রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন সড়কগুলোতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায়, পায়ে হেটেই গন্তব্যের পথে রওয়ানা হন মুসল্লিরা। তবে প্রত্যাশা যখন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন তখন ম্লান হয়ে যায় যেকোনো কষ্ট জানালেন মুসল্লিরা।  সড়কপথ যখন জনসমুদ্র তখন বিকল্প হিসেবে রেলপথ ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে মানুষের চাপে ইজতেমা ফেরত প্রতিটি ট্রেনই ছিলো লোকে লোকারণ্য। এর মধ্যেই যে যেভাবে পেরেছেন, ট্রেনে চেপে ধরেছেন বাড়ির পথ।

Post a Comment

Previous Post Next Post