বড়লেখা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী বড়লেখা উপজেলার নানা অপকর্মের হোতা বটল ডাকাতকে অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। বড়লেখা থানা পুলিশের এসআই অমিতাভ তাকে গ্রেফতার করে ১৮ অক্টোবর রোববার কোর্টে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন। জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার বোবারথল (ষাটঘরি) গ্রামের আব্দুর রহমান খাসিয়ার পুত্র আব্দুল মালিক বটল এমন কোন অপরাধ নেই যে সে তার সাথে জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চোরাইকারবারী সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত রয়েছে। সাধারন মানুষের পাশাপশি বিজিবি পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন সে পালিয়ে বেড়ালেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।আব্দুল মালিক বটল ও তার বাহিনী নির্যাতনের স্বীকার হয়ে কামাল হোসেন (ছলাম) নামে এক যুবক পঙ্গু হয়ে প্রায় সাড়ে ৩ মাস থেকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।বড়লেখা থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার বোবারথল কড়ইতলা গ্রামেরমৃত আব্দুল লতিফ এর পুত্র তরুন ব্যবসায়ী কামাল হোসেন (ছলাম) এর পান জুম থেকে চলতি বছরের ৩ মার্চ প্রকাশে আব্দুল মালিক বটল ও তার সঙ্গী ১০/১২ জন পান পাড়তে থাকলে খবর পেয়ে এলাকাবাসীসহ ঘটনাস্থলে কামাল হোসেন (ছলাম) গেলে সন্ত্রাসীরা পানের জুম তাদের দাবী করে গ্রামবাসীর সামনে ছলামকে মারধর করে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে প্রায় ২ হাজার পানের গাছ কেটে নিয়ে যায়।
এলাকার লোকজনের কাছে এ নিয়ে বিচার প্রার্থী হলে গত ৮ জুলাই দিবাগত রাত
প্রায় ২ টায় ছলামের বসতঘরে আব্দুল মালিক বটলসহ ৪ জন সন্ত্রাসী প্রবেশ করে
ছলামকে প্রানে মারার জন্য মুখে বালিশ চাপা দিয়ে দা দিয়ে কুপাতে থাকলে
ধস্তাধস্তি এক পর্যায়ে ছলাম চিৎকার দিয়ে লোকজন আসার শব্দ পেয়ে সন্ত্রাসীরা
পালিয়ে যায়। এলাকার লোকজনের সহায়তায় মারাত্মকভাবে আহত ছলামকে প্রথমে বড়লেখা
হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছলামের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায়
তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
প্রেরন করা হয়। আজোঅবদি ছলাম সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
রয়েছে।কামাল হোসেন (ছলাম) বাদী হয়ে আব্দুল মালিক বটলসহ ৪জনকে আসামী করে
বড়লেখা থানায় ২৭ জুলাই মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-১৪।নানা অপকর্মের হোতা
আব্দুল মালিক বটল এর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এর আগে তার বিরুদ্ধে বোবারতলের
মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুল ছালাম বাদী হয়ে ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারী
একটি মামলা করেন, মামলা নং-১১।এ ছাড়াও আব্দুল মালিক বটল এর বিরুদ্ধে ১৯৭৪
সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিজিবির সুবেদার মোঃ আব্দুল করিম বাদী হয়ে ২০০৯
সালের ৬ জানুয়ারী একটি মামলা করেন, মামলা নং-৫।
