ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীন শিশু; 'দায়ী সামাজিক অস্থিরতা আর বিচারহীনতা'

ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীন শিশু; 'দায়ী সামাজিক অস্থিরতা আর বিচারহীনতা'
ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীন শিশু; 'দায়ী সামাজিক অস্থিরতা আর বিচারহীনতা'
অনলাইন ডেস্কঃ ঘরে- বাইরে সবখানেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে শিশুরা, ঘটছে ধর্ষণ ও খুনের মতো নৃশংসতা। সামাজিক অস্থিরতা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘরে কিংবা বাইরে, সবখানেই ক্রমশ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে শিশুরা। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের হিসেবে গত সাড়ে তিন বছরে খুন ও ধর্ষণের মতো নৃশংসতার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৮শ' শিশু। অন্যদিকে বিবিএসের জরিপ বলছে, পরিবারে বাবা-মায়ের হাতে মারধরের শিকার হচ্ছেন দুই-তৃতীয়াংশ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে শিশুদের প্রতি এসব নৃশংসতা। এ থেকে উত্তরণে এগিয়ে আসতে হবে, রাষ্ট্র, এর নাগরিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই। নোয়াখালীতে নিরপরাধ কিশোর মিলনকে হত্যার উদ্দেশ্যে উন্মত্ত জনতার হাতে ছেড়ে দেয় খোদ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। চার বছর পর এই হত্যার বিচারও ধামা চাপা দেয় পুলিশ। এরপর পৈশাচিক কায়দায় সিলেটে রাজন আর রাজধানীতে নাজিম হত্যা। তারপর রাকিব, রবিউলসহ আসতে থাকে একের পর এক শিশু হত্যার খবর। বাবা-মায়ের হাতেও নিষ্পাপ শিশুহত্যার ঘটনা নজরে আসে। সবমিলিয়ে হঠাৎ করেই শিশুহত্যার খবরে ভরে ওঠে সংবাদপত্রের পাতা। শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিবেদন বলছে, প্রতি বছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে সমাজে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা। বাড়ছে খুনির সংখ্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ বলেন, 'আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে হলিউড বা বলিউড কালচার আমাদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে। এখন সমাজে যে অপরাধ বা অপরাধের যে ধরণ, যে নির্মমতা হচ্ছে। এই অপরাধের ক্ষেত্রে আকাশ সংস্কৃতি আমাদের ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে।' তিনি আরও বলেন, 'এই ধরনের অপরাধ পুলিশি বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সমাধান করা যাবে না। কারণ এই বিষয়টার সঙ্গে একটি সামাজিক আন্দোলন আনতে হবে। শিশুরাও যে মানুষ, তাদেরও যে অধিকার আছে, এই বিষয়গুলো আমরা মানতে চাই না। এই জায়গাতে একটা বিশাল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।' সম্প্রতি বিবিএসের এক জরিপ বলছে, দুই তৃতীয়াংশ শিশু মারধরের শিকার হচ্ছে ঘরে, অভিভাবকদের হাতে। আর ৭৪ শতাংশ শিশুকে শৃঙ্খলা শেখানো হচ্ছে, বহুমুখী চাপ প্রয়োগ করে। এতে করে সমাজে তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য নতুন অপরাধী। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুছ শহিদ মাহমুদ বলেন, যদি নিয়মিতভাবে কোনো শিশুকে নির্যাতন করা হয়। এক সময় দেখা যাবে ওই শিশুকে নিয়মিত নির্যাতন করায় সে রীতিমত একজন অপরাধী হিসেবে গড়ে উঠবে।' শিশু হত্যার ঘটনাগুলোতে কোন কোন ক্ষেত্রে আসছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির কথাও। তবে এসব ক্ষেত্রে গাফিলতির কোন সুযোগ নেই বলে দাবি করলেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল বাকী। তিনি মনে করেন, সমাজের কিছু অপরাধীর শাস্তি হলে অন্য কেউ আর এই ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না। গবেষকরা বলছেন, শিশুদের প্রতি নির্যাতন, হত্যা ও বৈষম্য কমাতে গড়ে তুলতে হবে শিশু বান্ধব সমাজ ব্যবস্থা। 
-সময় টিভি

Post a Comment

Previous Post Next Post