![]() |
| চায়ের উৎপাদন কমায় শংকিত বাগান মালিকরা |
নিউজ ডেস্কঃ দেশের চা শিল্পের ইতিহাসে ২০১৩ সালে রেকর্ড সংখ্যক চা উৎপাদন হলেও গত বছর সেটি আর ধরে রাখা যায়নি। ক’দিন আগে 'টি' বোর্ডের প্রকাশিত রিপোর্টে গত বছর ২ ভাগ কম চা উৎপাদন হয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কখনো ভারি বর্ষণ আবার কখনো অনাবৃষ্টিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই অবস্থার উত্তরণে চা বাগানে সেচ ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিলেও সরকারি সহায়তা ছাড়া সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে দাবি বাগান মালিকদের। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৯ মাস চা উৎপাদনের মৌসুম। ২০১৩ সালে দেশে ৬ কোটি ৬২ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়। দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। কিন্তু ক’দিন আগে টি-বোর্ডের প্রকাশিত হিসেবে দেখা যায়, ২০১৪ সালে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ কেজিতে। এম. আহমদ টি অ্যান্ড ল্যান্ড কোম্পানি লি. এর মহা-ব্যবস্থাপক সৈয়দ মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিবছর মার্চের শুরু থেকেই উৎপাদন শুরু হয়। এসময় যদি সময়মতো বৃষ্টি না হয় তাহলে আমাদের যে লোকসান হয় সেটা পূরণ করতে আমাদের খুবই অসুবিধা হয়। চা-উৎপাদন বৃষ্টিপাতের ওপর পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার কারণ হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী বৃষ্টিপাত না হওয়াকেই দায়ী করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, অযৌক্তিক দাবি দাওয়া নিয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেয়ায় কমে যাচ্ছে উৎপাদন। দি নর্থ সিলেট টি কোম্পানি লি. এর পরিচালক আফজাল রশিদ চৌধুরী বলেন, 'এর সাথে যুক্ত নয় এমন কিছু লোক আছে যারা এদেরকে ইন্ধন দিচ্ছে। এতে করে চা-বাগানেরও ক্ষতি হচ্ছে এবং শ্রমিকদেরও ক্ষতি হচ্ছে।' খাদিম টি এস্টেটের মহা-ব্যবস্থাপক নোমান হায়দার চৌধুরী জানান, 'এই বছর যদিও বৃষ্টিপাত একটু বেশি কিন্তু সেটা সময়মতো ছিলনা। বিশেষ করে অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে আমরা বৃষ্টি পাই নাই।' তবে বিদেশের মতো দেশের চা বাগানেও সেচের ব্যবস্থা করলে অনাবৃষ্টি উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে অভিমত অনেকের। খাদিম টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমরা ছোট এলাকাগুলোতে সেচের ব্যবস্থা করতে পারছি কিন্তু বড় এলাকাগুলোতে সেচের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা দরকার।' বর্তমানে দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১শ’৬৫টি। এর মধ্যে সিলেটে অঞ্চলেই রয়েছে ১'শ ৩৭টি।
