বরবটি চাষে সফল কুলাউড়া উপজেলা

বরবটি চাষে সফল কুলাউড়া উপজেলা
ইমাদ উদ দীন: বরবটি চাষে মৌলভীবাজারের ৪০ গ্রামের কৃষকদের সফলতা এসেছে। ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজার। ব্রাহ্মণবাজার,বরমচাল ও ভাটেরা ৩ ইউনিয়নের চাষকৃত বরবটি এ বাজারেই বিক্রয় হয়। এ মওসুমে প্রতিদিনই প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বরবটি ক্রয়-বিক্রয় হয় ওই বাজারে । এ বাজার ছাড়াও কোনাগাঁও বিল্ডিং বাজার, শ্রীপুর মাদরাসা বাজার ও ব্রাহ্মণবাজারেও প্রতিদিনই সকালে বরবটির অস্থায়ী হাট বসে। আমন ধান চাষের পর পতিত ধান ক্ষেতের মাঠে তিন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চাষাবাদ হয় বরবটি। মূলত ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুর এলাকার গোবিন্দপুর, মৌলভীগাঁও, নাছনী, সাতরা, ইসলামপুর, রাজাপুর, মির্জাপুর, হিংগাজিয়া, জালালাবাদ,পশ্চিম জালালাবাদ, কোনাগাঁও, নবীনগর, হরিনগর, লামাপাড়া, দাউদপুর, শেরপুর, শ্রীপুর, চকের গ্রাম, সিংগুর গ্রামেই ব্যাপক পরিসরে এই বরবটির চাষ হয়। প্রতি বছর মওসুমে কয়েক কোটি টাকার বরবটি ওই এলাকায়ই চাষ হয়। তবে চাষিরা জানান প্রতিবছরই পানির অভাবে ব্যাহত হয় তাদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন। সরকারের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি গভীর নলকূপ স্থাপনের। সরজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায় কাকডাকা ভোর থেকেই চাষিরা বরবটি ক্ষেতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফসল সংগ্রহ আর ক্ষেত পরিচর্যায় তারা দল বেঁধে হাড়ভাঙা পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বরবটি চাষে এ সকল এলাকার দৃশ্য অনেকটা পাল্টে দিয়েছে। ওই এলাকাগুলোতে এখন শুধু বরবটির সবুজ প্রান্তর। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধুই বরবটির ক্ষেত। প্রতি বছরই মওসুমী সবজির এ ফসলটি চাষে উপজেলার ৩ ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়। এ সময় কর্মহীন আর্থিক টানাপোড়নে থাকা কৃষকদের ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়। অল্প সময়ে তুলনামূলক কম পরিশ্রম ও কম সময়ে লাভবান হন চাষিরা। নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই উৎরাই পেরিয়ে প্রতি বছরই এ ফসলটি চাষে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে চাষিরা। এখন চলছে বরবটি ফসল সংগ্রহের ভরা মওসুম। চাষিরাও ব্যস্ত ক্ষেত পরিচর্যা আর ফসল সংগ্রহে। এ অঞ্চলে বরবটি চাষের সাফল্যের ইতিহাস বেশি দিন আগের নয়। বরবটি চাষে সিলেট বিভাগে প্রথম এবং দেশের মধ্যে অন্যতম অঞ্চল হিসেবে কৃষকদের উদ্যমতা, কর্মস্পৃহা আর হাড়ভাঙা খাটুনি গত কয়েক বছর ধরে বরবটি চাষে সুখ্যাতি এনে দিয়েছে তাদের। বরবটির মওসুমে এ এলাকার কদরও অন্যরকম। এখানকার বরবটির সুনাম আর সুখ্যাতি দেশের নানা প্রান্তে। এক সময় আলু চাষে এ অঞ্চলটি খ্যাত ছিল। আর এখন! এখানকার চাষিদের সব স্বপ্নই যেন বরবটি চাষকে ঘিরে। ব্রাহ্মণবাজার, বরমচাল ও ভাটেরা এই ৩ ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার কৃষক বরবটি চাষে বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ সাফল্যে দিন দিন এ সবজি চাষে ঝুঁকছেন আশপাশ ইউনিয়নেরও চাষিরা। অল্প সময়ে, স্বল্প জায়গা ও পুঁজিতে ব্যাপক আয়ের এ ফসল চাষে আর্থিক সফলতার চাকা সচল করতে সক্ষম হয়েছেন অনেকেই। তবে মওসুমের শুরুতে পানি সংকটে প্রতিবছরই ফলন নিয়ে শঙ্কায় থাকেন চাষিরা। চাষকৃত এলাকায় গভীর নলকূপ থাকলে এমন আশঙ্কায় থাকতে হতো না তাদের। তা ছাড়া সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে সার, বীজ, কীটনাশক ও রোগ বালাই সম্মন্ধে ন্যূনতম ধারণা ও সহযোগিতা পেলে উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা আসতো বলে চাষিরা জানান। চাষিরা জানান সরকার থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেলে তারা সারা বছর শুধু এ ধরনের সবজির বাম্পার ফলন ঘটিয়ে নিজেদের বেকারত্ব ঘুচানোসহ দেশের সবজি ঘাটতি মোকাবিলায় অবদান রাখতে পারতেন। বরবটি চাষি আবদুল মালেক খোকন, আবদুল আহাদ, আজাদুর রহমান, মাসুক মিয়া , মাজেদ মিয়া , সমছু মিয়া, সিরাজ মিয়াসহ অনেকেই জানিয়েছেন গত বছরের তুলনায় এ বছর বরবটির উৎপাদন বেশি হওয়ার কথা থাকলেও সময়মত বৃষ্টি না হওয়াতে এবং কীটনাশক ও সার, বীজসহ কৃষি উপকরণগুলোর চড়া দাম থাকায় আশানুরূপ ফলন হয়নি। তবে এবছর দাম পাওয়া যাচ্ছে ভাল। কৃষকরা জানান প্রতি কেজি বরবটি পাইকারি ১৫ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে । চাষিরা জানান রোপণের ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ফলন আসে। ৩০ শতক জায়গায় বরবটি চাষ করে সব খরচ শেষে আয় হয় লাখ টাকা।

Post a Comment

Previous Post Next Post