সব ছেড়ে ছিটকে পড়ার কোন মানে হয় না

সব ছেড়ে ছিটকে পড়ার কোন মানে হয় না
সব ছেড়ে ছিটকে পড়ার কোন মানে হয় না
বিনোদন ডেস্কঃ কিছুদিন আগেই অভিনেতা মনির খান শিমুলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টেনেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নাদিয়া। বিচ্ছেদের আগে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে নানা ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। একপর্যায়ে বেশ কিছু দিন নাদিয়া ও শিমুল আলাদাও বাস করেছেন বলে মিডিয়াপাড়ায় জোর গুঞ্জন ওঠে। তবে সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আবারও একঘরে থাকা শুরু করেছিলেন। সুখটাকে যে করেই হোক বের করে আনতে চেষ্টাও কম করেননি নাদিয়া। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি যখন সীমা অতিক্রম করে, শেষ রক্ষা আর করতে পারেননি। বিচ্ছেদের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এ অভিনেত্রী। তবে সংসার জীবনের ইতি টানলেও মিডিয়া থেকে সরে দাঁড়াননি নাদিয়া। মন খারাপ থাকলেও মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। বর্তমানে প্রচার চলতি ও নতুনসহ কয়েকটি নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন নাদিয়া। নিজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের জীবনে খারাপ সময় আসে। তা মেনে নিয়েই পথ চলতে হয়। তাই বলে সব ছেড়ে দিয়ে ছিটকে পড়ার কোন মানে হয় না। নিয়মিত কাজ করছি। প্রচার চলতি ও নতুন শুরু করা ধারাবাহিকগুলোর কাজে অংশ নিচ্ছি। বর্তমানে ‘মেঘে ঢাকা শহর’ নামে একটি নাটকের শুটিং করেছেন নাদিয়া। পাশাপাশি ‘স্বপ্ন’, ‘কমেডি অ্যাট কলোনি’, ‘সম্রাট’, ‘গন্তব্য নিরুদ্দেশ’, ‘উত্তর পুরুষ’সহ আরও কয়েকটির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন এ অভিনেত্রী। এছাড়াও আসছে ঈদ উপলক্ষেও বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করার কথা রয়েছে তার। অভিনয়, নাচ, মডেলিং তিন মাধ্যমেই নাদিয়া সমানভাবে জনপ্রিয়। শোবিজ অঙ্গনে অধিকাংশ অভিনেত্রীরই নাচের মাধ্যমে অভিষেক হয়েছে। অতঃপর অভিনয় ও মডেলিংয়ে এসেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা নাচকে ভুলে শোবিজের অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে সেক্ষেত্রে নাদিয়া ব্যতিক্রম। অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি নাচকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন। নৃত্য দিয়েই মিডিয়ায় পথচলা শুরুত্ব করেছিলেন তিনি। প্রথমে শিশু একাডেমি, তারপর বাফাতে নৃত্যের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাফা থেকে তিনি সাত বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৮৬ সালে বিটিভির ‘শিশুমেলা’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টিভিপর্দায় আগমন ঘটে তার। এরপর বিটিভির ছোটদের অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নেন নাদিয়া। তারপর ১৯৯০ সালে নতুনকুঁড়ি প্রতিযোগিতায় অভিনয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ওই সময় তিনি ‘বারো রকম মানুষ’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ছায়কায়া’, ‘দৃষ্টিদান’, ‘মধ্যবর্তী’, ‘প্রজাপতি মন’, ‘ইট কাঠের খাঁচা’, ‘অগ্নিগিরি’, ‘অধ্যাপক’, ‘শেষের রাত্রি’ প্রভৃতি। নাদিয়া যখন ক্লাস সিক্সে পড়েন তখনই এলিগেন্টস সোয়েটারের বিজ্ঞাপনে মডেল হন। পরবর্তীতে পন্ডস এবং ওয়ালটনের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে এ অঙ্গনেও তার অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তবে পরবর্তী সময়ে নাটক ও নাচের মধ্যেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে নাদিয়াকে।
সব ছেড়ে ছিটকে পড়ার কোন মানে হয় না
সব ছেড়ে ছিটকে পড়ার কোন মানে হয় না

Post a Comment

Previous Post Next Post