 |
| রায়নার সেঞ্চুরি ও মহেন্দ্র সিং ধোনির হাফ সেঞ্চুরিতে ভারতের জয় |
স্পোর্টস ডেস্কঃ ব্রেন্ডন টেইলরের বিদায়টা জয়ের আবিরে রাঙাতে পারলো না জিম্বাবুয়ে। যদিও সেঞ্চুরি করে মঞ্চটা গড়েছিলেন টেইলর। কিন্তু সুরেশ রায়নার সেঞ্চুরি ও মহেন্দ্র সিং ধোনির হাফ সেঞ্চুরি হতাশায় পোড়ালো তাকে। অকল্যান্ডে শনিবার জিম্বাবুয়েকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই কোয়ার্টার ফাইনালে গেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে গ্রুপে ছয় ম্যাচের সবকটিই জিতলো ধোনির দল। আর এর মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জিম্বাবুয়ে। আর টেইলরও খেলে ফেললেন জিম্বাবুয়ের হয়ে শেষ ম্যাচটি। আগামী তিন বছর নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলবেন তিনি। শনিবার অকল্যান্ডে প্রথমে ব্যাট করে টেইলরের অনন্য সেঞ্চুরির পরও ৪৮.৫ ওভারে ২৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। রায়না ম্যাচ সেরা হন। বিশ্বকাপে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ওয়ানডেতে টানা দশম জয়। রায়না-ধোনির ১৯৬ রানের জুটিটা বিশ্বকাপে পঞ্চম উইকেটে ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ। ২৮৮ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে নেমে ২১ রানে দুই ওপেনার রোহিত শর্মা (১৬) ও শেখর ধাওয়ানের উইকেট হারায় ভারত। দলীয় ৭১ রানে রাহানে (১৯) রানআউট হন। ৯২ রানে কোহলি সিকান্দার রাজার বলে বোল্ড হলে চাপে পড়ে যায় ভারত। কোহলি ৩৮ রান করেন। এই সময় ভারতকে আরও চেপে ধরার সুযোগ পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকা রায়নার ক্যাচ ফেলেছেন হ্যামিল্টন মাসাদকাদজা। তখন রায়না ৪০ রানে ব্যাট করছেন। এরপর আর সুযোগ দেননি তিনি জিম্বাবুয়েকে। পঞ্চম উইকেটে তারা ১৯৬ রানের জুটি গড়েন। রায়না পূর্ণ করেন পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ধোনি পেয়ে যান ৫৭তম হাফ সেঞ্চুরি। তারা অবিচ্ছিন্ন থেকেই দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। রায়না ১০৪ বলে অপরাজিত ১১০ রানের (৯ চার, ৪ ছয়) ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন। ধোনি ৭৬ বলে ৮৫ রান (৮ চার, ২ ছয়) করে অপরাজিত ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে পানিয়াঙ্গারা ২টি উইকেট পান। এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ উইকেটে টেইলর-শন উইলিয়ামস ৯৩ রানের জুটি গড়েন। উইলিয়ামস ৫০ রান করে অশ্বিনের বলে কট এন্ড বোল্ড হন। ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটেও ১০৯ রানের জুটি গড়েন টেইলর। যে জুটির সিংহভাগ রানই আসে তার ব্যাট থেকে। ৬৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। তবে তার সেঞ্চুরিটা এসেছে ৯৯ বলে। দলীয় ২৩৫ রানে মোহিত শর্মার শিকার হওয়ার আগে ১১০ বলে ১৩৮ রানের (১৫ চার, ৫ ছয়) ইনিংস খেলেন টেইলর। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তাকে দিয়েছে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের মর্যাদা। টপকে গেছেন স্বদেশী অগ্রজ অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের সাত সেঞ্চুরিকে। তখন সম্ভাবনা জেগে ছিল জিম্বাবুয়ের স্কোরটা তিনশো ছাড়াবে। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। উল্টো পুরো ৫০ ওভারই খেলতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিন ২৭, সিকান্দার রাজা ১৫ বলে ২৮ রানের ক্যামিও খেলেন। ভারতের পক্ষে শামি, উমেশ যাদব ও মোহিত শর্মা ৩টি করে উইকেট পান।